বার্ষিক ছুটি কমানোয় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী–অভিভাবক, পুনর্বিবেচনার দাবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বার্ষিক ছুটি কমানোয় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী–অভিভাবক, পুনর্বিবেচনার দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
বার্ষিক ছুটি কমানোয় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী–অভিভাবক, পুনর্বিবেচনার দাবি ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ শিক্ষাপঞ্জিতে ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ
ad728

দেশের মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে মোট বার্ষিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ দিন, যা চলতি বছরের ৭৬ দিনের তুলনায় ১২ দিন কম। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই অবাস্তব ও শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করছেন এবং তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।

নতুন শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যালয় খোলা থাকবে প্রায় ২১ দিন। সম্ভাব্য হিসাবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হতে পারে। তবে ঘোষিত ছুটির তালিকায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। ফলে ২১ রমজান পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রোজার মধ্যেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও শহীদ দিবস পড়লেও দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আলাদা ছুটি হিসেবে দেখানো হয়নি।

শিক্ষাপঞ্জি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শবেমেরাজ, সরস্বতী পূজা, মে দিবস, বুদ্ধপূর্ণিমা, আশুরা, জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা ও মহালয়ার মতো বেশ কয়েকটি ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসে আলাদা ছুটি রাখা হয়নি। চলতি বছরে যেখানে রোজা, দোলযাত্রা, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবেকদর ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে মোট ২৮ দিন ছুটি ছিল, ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দিনে। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে ছুটি কমেছে তিন দিন, আর শীতকালীন অবকাশও এক দিন কমানো হয়েছে।

অভিভাবকদের মতে, সারা বছর পড়াশোনা, পরীক্ষা, কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার চাপে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকে। এর মধ্যে ছুটি কমে যাওয়ায় সেই চাপ আরও বাড়বে। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্থপতি হামিদুল হক বলেন, শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ছুটি না থাকলে শিশুদের বিশ্রাম ও মানসিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ কমে যায়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রুদাবা রশীদ বলেন, শহরে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। শিশুরা স্কুল আর বাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। স্কুলের ছুটিতেই পরিবার নিয়ে বাইরে যাওয়ার সুযোগ মেলে, সেটিও কমিয়ে দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিক্ষার্থীরাও ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কিশোর ক্লডিয়াস জানায়, সারা বছর ক্লাস ও পরীক্ষার চাপের মধ্যে সময় কাটে। ছুটির সময়টুকুই পরিবার ও নিজের জন্য পাওয়া যায়, সেটি কমে যাওয়ায় মানসিক চাপ বাড়ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর কর্মদিবস বাড়ানোর লক্ষ্যেই ছুটি কমানো হয়েছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, ছুটি কমানোর বদলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপঞ্জি আরও বাস্তবসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ শিক্ষাপঞ্জিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংবর্ধনার নামে ক্লাস বন্ধ রাখা যাবে না এবং পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিউইয়র্ক সিটিতে নীতিগত মোড়: ইসরায়েল বয়কটের বাধা তুলে নিলেন ম

নিউইয়র্ক সিটিতে নীতিগত মোড়: ইসরায়েল বয়কটের বাধা তুলে নিলেন ম