বার্সেলোনার সোনালি যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ভিক্তর ভালদেস। পেপ গার্দিওলার সময়কার সেই ঐতিহাসিক দলের গোলপোস্ট সামলানোর পাশাপাশি লিওনেল মেসি, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও কার্লেস পুয়োলদের সঙ্গে ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সফল অধ্যায় গড়েছিলেন তিনি। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে ৫৩৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
বার্সেলোনার হয়ে ছয়টি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন ভালদেস। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ও তার ক্যারিয়ারের বড় অর্জন। তবে ২০১৪ সালে সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর হাঁটুর চোট পাওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে।
পরবর্তীতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ ও মিডলসব্রোর হয়ে খেললেও বার্সেলোনার সময়ের ধারাবাহিকতা আর ফিরে পাননি। ২০১৭ সালে মিডলসব্রোর সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর কোনো ক্লাবে খেলেননি।
এরপর থেকেই জনসমক্ষে ভালদেসের উপস্থিতি কমতে থাকে। ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো পোস্ট মুছে দিয়ে ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন তিনি। এর আগেই এক সাক্ষাৎকারে অবসরের পর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে ফুটবল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হননি ভালদেস। ২০১৯ সালে বার্সেলোনা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে মোরাতালাজের যুব দল ও ইউএ হোর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলেও হঠাৎ কোচ হিসেবে ফুটবলে ফেরেন স্পেনের চতুর্থ স্তরের ক্লাব রিয়াল আভিলায়। কিন্তু দেড় মাসেরও কম সময় পর সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
এরপর আবারও জনসমক্ষে তার উপস্থিতি প্রায় নেই। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোও তাকে এমন একজন সাবেক তারকা হিসেবে উল্লেখ করেছে, যিনি ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। তার বর্তমান অবস্থান বা দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে খুব বেশি তথ্যও প্রকাশ্যে নেই।
একসময় বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গোলরক্ষক হলেও অবসরের পর সাধারণ জীবন বেছে নেওয়ার ইচ্ছাই যেন বাস্তব করেছেন ভালদেস। আলো থেকে দূরে থাকার যে কথা তিনি একসময় বলেছিলেন, তার বর্তমান জীবন অনেকটাই সেই ইচ্ছার প্রতিফলন।
কসমিক ডেস্ক