ব্যাটের শব্দে দেশদ্রোহ, আর নীরবতায় মানবতা—হিংসার রাজনীতিতে বিদ্ধ শাহরুখ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ব্যাটের শব্দে দেশদ্রোহ, আর নীরবতায় মানবতা—হিংসার রাজনীতিতে বিদ্ধ শাহরুখ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 3, 2026 ইং
ব্যাটের শব্দে দেশদ্রোহ, আর নীরবতায় মানবতা—হিংসার রাজনীতিতে বিদ্ধ শাহরুখ ছবির ক্যাপশন: আইপিএলের নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়ার পর সমালোচনার মুখে শাহরুখ খান।
ad728

ক্রিকেট যেখানে খেলাধুলার আনন্দ আর সীমান্ত পেরোনো বন্ধুত্বের প্রতীক, সেখানে হঠাৎ করেই সেই মাঠে ঢুকে পড়েছে ঘৃণার রাজনীতি। আইপিএলে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়ায় এবার কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির নিশানায় পড়েছেন বলিউড তারকা ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খান।

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতা ও সাবেক বিধায়ক সংগীত সোম প্রকাশ্য জনসভায় শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার’ বা ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএলে নেওয়া হয়। তার ভাষায়, “৯ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেনা হয়েছে। এমন দেশদ্রোহীদের এই দেশে থাকার অধিকার নেই।”

এখানেই থামেননি তিনি। সংগীত সোম হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী মার্চে আইপিএল শুরু হলে মোস্তাফিজের মতো ক্রিকেটাররা নাকি ভারতের বিমানবন্দরে নামতেই পারবেন না। রাজনীতির উত্তেজনা ছড়াতে এ ধরনের বক্তব্য যে কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর আইপিএলের নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআর। ক্রিকেটবিশ্বে যেখানে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছিল খেলোয়াড়ের প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে, সেখানে কিছু মহল সেটিকে ধর্ম ও জাতীয়তার চশমায় দেখতে শুরু করেছে।

একই সুরে কথা বলেছেন ধর্মগুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও। তিনি কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে আহ্বান জানান, মোস্তাফিজকে যেন দলে খেলানো না হয়। তার দাবি, “সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই শাহরুখ খানকে তারকা বানিয়েছে।” প্রশ্ন উঠছে—ক্রিকেট কি তবে এখন ধর্মের সার্টিফিকেট নিয়ে খেলতে নামবে?

এই বিতর্কের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা মাতা প্রসাদ পান্ডে। কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুত সরাসরি বিজেপিকেই ‘দেশদ্রোহী রাজনীতি’র অভিযোগে বিদ্ধ করেন। এমনকি বিজেপির মিত্র দল সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির নেতা ও মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভরও সংগীত সোমের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আলোচনায় থাকতে তিনি নিয়মিত এমন উসকানিমূলক কথা বলেন।সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—ক্রিকেট কি আর খেলাধুলা থাকবে, নাকি কট্টর রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হবে? আর একজন শিল্পী বা ক্রীড়া উদ্যোক্তা কি দেশপ্রেমের প্রমাণ দেবে দল গঠনের সময় ধর্মীয় হিসাব কষে?
খেলা হোক বা রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই সংযম, মানবিকতা ও ন্যায়বোধই হওয়া উচিত প্রধান চালিকাশক্তি। ধর্মীয় আবেগের নামে কাউকে হুমকি দেওয়া বা ‘দেশদ্রোহী’ তকমা লাগানো কখনোই সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। ভারতের মতো বহুত্ববাদী দেশে, যেখানে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান সবাই মিলেই জাতীয় পরিচয় গড়ে তুলেছে, সেখানে এমন বিভাজনমূলক ভাষা হিন্দু ধর্মের উদার চেতনাকেই ছোট করে। খেলার মাঠে রাজনীতি টেনে আনা কিংবা রাজনীতিতে ঘৃণার আগুন ছড়ানো—দুটোই দেশের জন্য ক্ষতিকর। হিন্দু সমাজের ইতিহাস সহনশীলতা ও মানবিকতার, সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ একেবারেই মানানসই নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্ষমতায় গেলে কোন চ্যালেঞ্জে পড়বে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো

ক্ষমতায় গেলে কোন চ্যালেঞ্জে পড়বে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো