মেসি ম্যাজিকে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, কোথায় হারলেন টমাস টুখেল? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মেসি ম্যাজিকে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, কোথায় হারলেন টমাস টুখেল?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 16, 2026 ইং
মেসি ম্যাজিকে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, কোথায় হারলেন টমাস টুখেল? ছবির ক্যাপশন:

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ফলাফল যেমন নাটকীয়, তেমনি কোচদের কৌশলগত লড়াইটিও ছিল অসাধারণ। প্রথমার্ধে টমাস টুখেলের পরিকল্পনা সফল হলেও শেষ পর্যন্ত লিওনেল স্কালোনির ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের সামনে টিকতে পারেনি ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই লিওনেল মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা নেয় ইংল্যান্ড। তরুণ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দেওয়া হয় ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব। মেসি বল পেলেই চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। ফলে প্রথমার্ধে মেসি অস্বাভাবিকভাবে বহুবার বল হারান এবং কোনো কার্যকর শট কিংবা কিলার পাস দিতে পারেননি। ইংল্যান্ডের কমপ্যাক্ট ডিফেন্সিভ ব্লক আর্জেন্টিনার আক্রমণও অনেকটা থামিয়ে রাখে।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যায়। দলটি অনেক নিচে নেমে ডিফেন্স করতে শুরু করে। ফলে বলের দখল প্রায় পুরোপুরি আর্জেন্টিনার কাছে চলে যায়।

ম্যাচের শেষভাগে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড় নিজেদের বক্সের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এতে মাঝমাঠে বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা কাজে লাগান মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পল।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মন্টিয়েলকে মাঠে নামিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ান। একই সঙ্গে মেসিকে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে দেন। ফলে অ্যান্ডারসনের কড়া পাহারা থেকে বেরিয়ে এসে মেসি নিজের পছন্দের হাফ-স্পেসে জায়গা খুঁজে পান।

আর্জেন্টিনা কৌশলগতভাবে ফরোয়ার্ড লাইন ফাঁকা রেখে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের সামনে টেনে আনে। এতে মাঝমাঠ ও বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি হয়, যা থেকে ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তোলে আলবিসেলেস্তেরা।

টুখেলের পরিকল্পনায় হ্যারি কেইনকে শুধু স্ট্রাইকার নয়, ডিফেন্সিভ দায়িত্বও পালন করতে হয়। তিনি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারদের নজরদারিতে ব্যস্ত থাকায় আক্রমণে খুব কমই প্রভাব ফেলতে পারেন। পুরো ম্যাচে কেইনের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল সীমিত এবং তিনি প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে কার্যকর উপস্থিতি তৈরি করতে ব্যর্থ হন।

৮৫তম মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোল। কর্নার থেকে ফিরতি বলে মেসি নিজের দিকে ডিফেন্ডারদের আকৃষ্ট করে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের বাইরে অপেক্ষায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে। কোনো চাপ ছাড়াই ডান পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এনজো।

সমতা ফেরানোর পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষদিকে ডান দিক থেকে মেসির নিখুঁত ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে উঠে দুর্দান্ত হেড করেন লাউতারো মার্তিনেজ। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না।

বদলি হিসেবে নেমে ডি পল কখনো মিডফিল্ডে, কখনো উইংয়ে খেলেছেন। মেসির সঙ্গে তার পজিশন পরিবর্তন ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বিভ্রান্ত করে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের 'ডিলেড রান' কৌশলও ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথমার্ধে টুখেলের পরিকল্পনা কার্যকর থাকলেও শেষ ২০ মিনিটে স্কালোনির কৌশলগত পরিবর্তন পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। মেসির অভিজ্ঞতা, ডি পলের গতিশীলতা এবং এনজো-লাউতারোর কার্যকর ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণব্যূহ ভেঙে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। এখন বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে স্পেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে ভয়াবহ সংঘর্ষ

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে ভয়াবহ সংঘর্ষ