বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ফলাফল যেমন নাটকীয়, তেমনি কোচদের কৌশলগত লড়াইটিও ছিল অসাধারণ। প্রথমার্ধে টমাস টুখেলের পরিকল্পনা সফল হলেও শেষ পর্যন্ত লিওনেল স্কালোনির ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের সামনে টিকতে পারেনি ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই লিওনেল মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা নেয় ইংল্যান্ড। তরুণ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দেওয়া হয় ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব। মেসি বল পেলেই চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। ফলে প্রথমার্ধে মেসি অস্বাভাবিকভাবে বহুবার বল হারান এবং কোনো কার্যকর শট কিংবা কিলার পাস দিতে পারেননি। ইংল্যান্ডের কমপ্যাক্ট ডিফেন্সিভ ব্লক আর্জেন্টিনার আক্রমণও অনেকটা থামিয়ে রাখে।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যায়। দলটি অনেক নিচে নেমে ডিফেন্স করতে শুরু করে। ফলে বলের দখল প্রায় পুরোপুরি আর্জেন্টিনার কাছে চলে যায়।
ম্যাচের শেষভাগে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড় নিজেদের বক্সের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এতে মাঝমাঠে বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা কাজে লাগান মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পল।
দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মন্টিয়েলকে মাঠে নামিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ান। একই সঙ্গে মেসিকে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে দেন। ফলে অ্যান্ডারসনের কড়া পাহারা থেকে বেরিয়ে এসে মেসি নিজের পছন্দের হাফ-স্পেসে জায়গা খুঁজে পান।
আর্জেন্টিনা কৌশলগতভাবে ফরোয়ার্ড লাইন ফাঁকা রেখে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের সামনে টেনে আনে। এতে মাঝমাঠ ও বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি হয়, যা থেকে ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তোলে আলবিসেলেস্তেরা।
কসমিক ডেস্ক