১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে ৬-৪ হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে ৬-৪ হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 19, 2026 ইং
১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে ৬-৪ হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড ছবির ক্যাপশন:

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেই ধারণা একেবারেই বদলে দিয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। দুই দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর আক্রমণভাগের দাপটে ম্যাচটি পরিণত হয় ১০ গোলের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে।

অবশেষে ৬-৪ গোলের জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য। অন্যদিকে ১৯৫৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-৩ গোলে জয়ের স্মৃতি থাকলেও, ৬৮ বছর পর এবার একই মঞ্চে ৬ গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ফ্রান্সের।

সেমিফাইনালে হারের পর দুই দলই একাধিক পরিবর্তন এনে মাঠে নামে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম, যিনি শেষবারের মতো দলের দায়িত্বে ছিলেন, একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল করেন আটটি পরিবর্তন।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। প্রথম গোল করেন ডেকলান রাইস। এরপর ব্যবধান বাড়ান এজরি কনসা। বিরতির আগে জোড়া গোল করে দলের বড় ব্যবধান নিশ্চিত করেন বুকায়ো সাকা। অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল না হলে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ হতে পারতেন এই ইংলিশ উইঙ্গার।

দ্বিতীয়ার্ধেও নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নেমে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোলটি করেন জুড বেলিংহাম।

তবে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও সহজে হার মানেনি ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় তারা। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা আরও একটি গোল করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে আবারও গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন এমবাপ্পে।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান এমবাপ্পে, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। একই সঙ্গে এবারের আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে যান তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলে একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। শেষ মুহূর্তে দেম্বেলে আরেকটি গোল করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের জয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

এই সাফল্যের জন্য ইংল্যান্ড পুরস্কার হিসেবে প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা পেয়েছে। চতুর্থ হওয়া ফ্রান্সের প্রাপ্তি প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। তবে বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য শেষ ম্যাচটি রয়ে গেল হতাশার স্মৃতি হয়ে, কারণ তার কোচিং ক্যারিয়ারে ফ্রান্স এই প্রথম এক ম্যাচে ৬ গোল হজম করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ