বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত ছুটি কাটিয়ে ব্রাজিলে ফিরেছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দেশে ফিরেই তিনি কানারিনহাদের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখাও তুলে ধরেছেন।
ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম মার্কা-এর বরাতে এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণে ব্রাজিলের স্পেন বা ফ্রান্সের খেলার ধরণ অন্ধভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। বরং ব্রাজিলের নিজস্ব ফুটবল দর্শন ও শক্তির জায়গাগুলোকে আরও উন্নত করাই হবে তার মূল লক্ষ্য।
আনচেলত্তির মতে, নরওয়ের বিপক্ষে পরাজয় একটি প্রজন্মের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছে। তাই এখন তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে নতুন দল গঠনের সময়। তিনি জানান, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সাফল্যের পেছনে রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি অলমো, মার্টিন জুবিমেন্দি, মিকেল মেরিনো ও গাভির মতো শক্তিশালী মিডফিল্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ব্রাজিলের বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় একই কৌশল অনুসরণ করা হবে না।
অভিজ্ঞ এই ইতালীয় কোচের ভাষ্য, ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিডফিল্ডকে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলা।
দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নেইমারের জাতীয় দলের অধ্যায়ের সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন আনচেলত্তি। পাশাপাশি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রতিভাবান ফুটবলারদের মূল দলে তুলে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
৬৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কোচ আরও বলেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের দায়িত্বে থাকার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে নয়। বরং ব্রাজিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রকল্পের প্রতি তার আন্তরিক বিশ্বাস এবং দেশটির মানুষের ভালোবাসাই তাকে এই দায়িত্বে অনুপ্রাণিত করছে।
কসমিক ডেস্ক