আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-৪ আসনে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। তাদের আশঙ্কা, থানা থেকে লুট হওয়া ও এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়ামে বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন প্রার্থীরা। কুমারখালী ও খোকসা থানা পুলিশের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সভাটি প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলার পর দুপুর আড়াইটার দিকে শেষ হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার খাঁন, বাংলাদেশ মাইনরিট পার্টির প্রার্থী তরুণ কুমার ঘোষ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, গণফোরামের প্রার্থী আব্দুল হাকিম মিঞা এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। তাদের মতে, পদ্মা ও গড়াই নদীপাড়ের এলাকায় এখনো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজন করা কঠিন হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান তারা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, কুষ্টিয়া জেলা থেকে মোট ৫৫টি অস্ত্র খোয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি অস্ত্রও নিখোঁজ থাকা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রার্থীদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমরা যতদিন কুষ্টিয়ায় দায়িত্বে থাকব, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করব। কোনো অস্ত্র যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর থাকব।”
এ সময় তিনি প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। প্রশাসন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. তাসমিন জাহান, খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন, কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কসমিক ডেস্ক