বিদ্যালয় নির্মাণের নামে সংরক্ষিত পাহাড় কেটে উজাড় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিদ্যালয় নির্মাণের নামে সংরক্ষিত পাহাড় কেটে উজাড়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
বিদ্যালয় নির্মাণের নামে সংরক্ষিত পাহাড় কেটে উজাড় ছবির ক্যাপশন:
ad728

বিদ্যালয় নির্মাণের নাম করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রকাশ্যে সংরক্ষিত বনভূমির পাহাড় কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও নেই সরকারি অনুমোদন, প্রকল্পের নামফলক কিংবা সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ড। দিনের পর দিন খননযন্ত্র দিয়ে পাহাড় কাটা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়েনি।

গত রোববার ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুল্যাছড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বড় পাহাড় সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। সড়ক নির্মাণের অজুহাতে পাশের আরও দুটি পাহাড়ে আঘাত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন নারায়ণহাট রেঞ্জের ধুরুং বনবিটের সংরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত এসব পাহাড়ের মাটি ফেলে পাশের কৃষিজমি ভরাট করা হয়েছে।

কাটা পাহাড়ের ঢালে গাছ ও বাঁশ ব্যবহার করে কয়েক কক্ষের একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কোনো সরকারি অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পরিবেশবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ বলেন, পাহাড় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাহাড় ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যায় এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। টিলা ও পাহাড় কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাফেজ মুহাম্মদ শাহ আলম নঈমী নামের এক ব্যক্তি রাউজান থেকে এসে প্রথমে পাইন্দং এলাকায় একটি দরবারে অবস্থান নেন। পরে ধাপে ধাপে সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটার কাজ শুরু করেন। এ কাজে তিনি অনুসারীদের ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর তদারকি ছিল না।

পাহাড় কাটার কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় মাস্টার হারুন বলেন, ‘জায়গাটি মূলত রিজার্ভ ফরেস্ট। আমরা গত বছর এটি দখলে নিয়েছি। এখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। পাহাড় কেটে উপযোগী করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা এক্সকাভেটর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সবাই জানে, কেউ বাধা দেয়নি। হুজুরের দরবারে বড় বড় সাংবাদিক, নেতা ও প্রশাসনের লোকজন আসেন। আমাদের কিছুই হবে না।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাফেজ মুহাম্মদ শাহ আলম নঈমী নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাহমাতুল্লিল আলামিন কমপ্লেক্স ও আহজমানে নঈমিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় ‘জালালিয়া রজবিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়’ স্থাপনের নামে এই পাহাড় কাটা হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জালালিয়া রজবিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা রয়েছে, যার নির্মাণকালেও পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছিল।

স্থানীয়রা আরও জানান, পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল রাবারবাগান এলাকায় আশরাফাবাদ দরবার শরিফের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাতেও একই কায়দায় দখল করা জায়গায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ রয়েছে।

পাহাড় কেটে বিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে হাফেজ মুহাম্মদ শাহ আলম নঈমী বলেন, ‘আমি শাহজালাল বাবার নামে এখানে সড়ক করেছি, মাদ্রাসা করেছি। এখন স্কুল করছি।’

ধুরুং বনবিটের কর্মকর্তা অবনী কুমার ত্রিপুরা স্বীকার করেন, দখল করা পাহাড়টি বন বিভাগের সংরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত। নারায়ণহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক খান মো. আবরারুর রহমান বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। সরেজমিন পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানও জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফটিকছড়ির পাহাড় ও বনভূমি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চানখারপুল হত্যা মামলা: আজ রায় নয়, ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ

চানখারপুল হত্যা মামলা: আজ রায় নয়, ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ