বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে আঙুল তুলে উত্তেজিত ভাষায় কথা বলছেন রুমিন ফারহানা। এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ প্রদর্শন করা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, এর আগে একই দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুমিন ফারহানার এক সমর্থককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শনিবার দুপুরে ইসলামাবাদ গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে রুমিন ফারহানার একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে কোনো ব্যানার বা মাইক ব্যবহার করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। রুমিন ফারহানা মঞ্চে ওঠার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান সেখানে উপস্থিত হন এবং তাকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে নির্দেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার… দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।” তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, রুমিন ফারহানা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সভা করছিলেন। তাই তাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি আশা করেন আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করার আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নির্বাচনী মাঠে সমান আচরণ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ তুলছেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক