কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, বিএনপিতে বাড়ছে বিদ্রোহী উদ্বেগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, বিএনপিতে বাড়ছে বিদ্রোহী উদ্বেগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, বিএনপিতে বাড়ছে বিদ্রোহী উদ্বেগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বড় চাপে পড়েছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলের ভেতরে উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কায় এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে এখন বিএনপির জন্য বড় ‘মাথাব্যথা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সারা দেশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে তৈরি করেছে বিএনপি। জোট ও দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো মাঠে রয়েছেন, প্রথম ধাপে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা করা হবে।

সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নেতারা সরাসরি বৈঠক, সাংগঠনিক ব্যাখ্যা এবং দলীয় ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে বিদ্রোহীদের বোঝানোর উদ্যোগ নেবেন। তবে কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কার অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, শেরপুর, নেত্রকোনা, সিলেট, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এসব আসনের বেশ কয়েকটিতে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

কুমিল্লার একাধিক আসনে সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা এবং জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা বিদ্রোহী অবস্থানে রয়েছেন। একই পরিস্থিতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটেও দেখা যাচ্ছে, যেখানে একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা নেতারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

কিছু ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হলেও তাঁরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে অনিচ্ছুক। এতে করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনী কৌশল—দুটোই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা।

দলের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী ইস্যু দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে এর প্রভাব ফলাফলে পড়তে পারে। সে কারণে সমঝোতা ও শাস্তি—দুই পথই খোলা রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির সাংগঠনিক বিস্তার যেমন বেড়েছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিদ্রোহী সংকট সামাল দিতে পারাই এখন বিএনপির জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ নেই, রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রুমিন

দলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ নেই, রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রুমিন