গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশে এমন কোনো বিধান নেই, যা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলার অধিকার খর্ব করে।
সিলেটে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, “এই গণভোট কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত জুলাই মাসে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রক্ত দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতা হিসেবেই এই গণভোটকে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ—কোথাও বলা নেই যে সরকারি কর্মকর্তারা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না।” এ বিষয়ে যারা ভিন্ন দাবি করছেন, তারা কোনো আইনি রেফারেন্স দেখাতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলী রীয়াজের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারে আইনগত বাধা রয়েছে—এমন বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা। তিনি বলেন, “যারা এ ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন।”
সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। আলী রীয়াজ বলেন, “আপনারা কোন নৈতিকতার কথা বলছেন? সেই নৈতিকতা কি তাজা তরুণদের রক্তকে অস্বীকার করে? যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মদানকে উপেক্ষা করা কি নৈতিক?”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়াকে সফল করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাগরিক হিসেবেও তারা মত প্রকাশের অধিকার রাখেন—এ কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ভয় বা বিভ্রান্তি নয়, বরং আইন, যুক্তি ও ইতিহাসের আলোকে এগিয়ে যেতে হবে।
কসমিক ডেস্ক