মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে সরকার, নতুন শ্রমবাজারে নজর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে সরকার, নতুন শ্রমবাজারে নজর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 15, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে সরকার, নতুন শ্রমবাজারে নজর ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে সরকার বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

নতুন সম্ভাব্য শ্রমবাজার হিসেবে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়া। এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়া, শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হচ্ছে। সরকার উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কর্মী নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, কর্মসংস্থানের চাহিদা নিরূপণ এবং পেশাভিত্তিক সুযোগ চিহ্নিত করতে তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।

প্রয়োজনে নির্দিষ্ট দেশের জন্য স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে নতুন বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে কর্মী প্রেরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) জাপানি ভাষা শেখানো হচ্ছে।

শুধু জাপানি নয়, অন্যান্য ভাষাতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। রুশ, আরবি, জার্মান এবং ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও চলছে, যাতে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন বেকারত্ব কমাতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়াবে।

সব মিলিয়ে, সরকার যে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশ্বব্যাপী নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জামায়াত-বিএনপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি

জামায়াত-বিএনপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি