নির্বাচনের আগে মব সহিংসতা: রাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচনের আগে মব সহিংসতা: রাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 20, 2026 ইং
নির্বাচনের আগে মব সহিংসতা: রাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ থাকা স্বাভাবিক। সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এবারের বাস্তবতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জটিল ও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে মব সহিংসতা বা গণপিটুনির ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।

সরকারের কড়া নির্দেশনার আলোকে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মব দমনে চেষ্টা চালাচ্ছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতায় সেই চেষ্টা যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না। এক জায়গায় অভিযান চালালে অন্য জায়গায় নতুন করে মব তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, পুলিশ আক্রান্ত, মাদক ও চোরাচালানের ঘটনাও বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে মব সহিংসতায় অন্তত ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৯৭ জনে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসব পরিসংখ্যান নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির ভয়াবহতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

মব সহিংসতাকে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে গুজব, সন্দেহ, ট্যাগিং ও ছোটখাটো অভিযোগকে পুঁজি করে সংঘটিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দলবদ্ধভাবে হামলার পেছনে হীনস্বার্থ কাজ করছে, যা রাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কাজে অতিব্যবহারের কারণে পুলিশ নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর ব্যাখ্যা বা অজুহাত শুনতে চায় না। তাদের প্রত্যাশা—পুলিশ অন্তত পেশাদারত্বের পরিচয় দিক এবং মব ও অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিক। কয়েকটি দৃষ্টান্তমূলক অ্যাকশনই মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করতে পারে।

এখানে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্বাচন সামনে রেখে তাদের কর্মকাণ্ড জনগণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে কোনোভাবেই উৎসাহ দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশ এখন একটি রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে নতুন বাংলাদেশের আশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই আশার পাশে যদি ভয়, অস্থিরতা ও মব সহিংসতা বাড়তে থাকে, তবে এই রূপান্তর প্রশ্নবিদ্ধ হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রমাণ করতে হবে—তারা শুধু কথায় নয়, কাজে শক্ত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারত্ব, সাহস ও ত্যাগের ঐতিহ্য রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে সেই সক্ষমতা আরও দৃশ্যমান করা জরুরি। শক্ত হাতে কয়েকটি ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিলে মব ও যেকোনো কুতৎপরতা দমতে বাধ্য। কারণ মববাজরা রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নয়, এবং তারা জনতার কাছেও ঘৃণিত।

নির্বাচনের আগে মানুষ ভয় নয়, নিরাপত্তা চায়। মববাজ দমনের অপেক্ষায় এখন জনতা। এই অপেক্ষা যেন আর দীর্ঘ না হয়—এটাই সময়ের দাবি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘ঘুমের সময়’ বলে সেবা না দেওয়ার অভিযোগ, নবজাতক হারাল পরিবার

‘ঘুমের সময়’ বলে সেবা না দেওয়ার অভিযোগ, নবজাতক হারাল পরিবার