কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং ২০ হাজার বিদ্যমান চালককে উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপগ্রেড করা হবে। এই কর্মসূচিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যমান ২০ হাজার চালককে উন্নত দক্ষতায় উন্নীত করা হবে।”
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নতুন চালকদের বড় একটি অংশ বর্তমানে লাইট ভেহিকেল চালান, যাদের বিদেশে তেমন চাহিদা নেই। তবে উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় থাকা ২০ হাজার চালককে হেভি ভেহিকেল ও ভারী যন্ত্রপাতি—যেমন ক্রেন, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে তারা বিদেশের শ্রমবাজারে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিয়ম অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে।
অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পের সঙ্গে আসন্ন কোনো নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। এটি একটি কাঠামোগত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান উদ্যোগ। বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এই কর্মসূচি দেশের অভ্যন্তরেও পেশাদার চালকদের মান উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা” প্রকল্পের বিআরটিএ অংশের একটি প্যাকেজের আওতায় ‘কমার্শিয়াল ড্রাইভার ট্রেনিং’ সেবা ক্রয়ের এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্বের চাপ কমবে, দক্ষ চালক ও ভারী যন্ত্রপাতি অপারেটরের আন্তর্জাতিক চাহিদাসম্পন্ন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কসমিক ডেস্ক