বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ ২৮ এপ্রিল জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পদক্ষেপকে কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাশিয়ার অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রোসাটম এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়া হবে।
এর আগে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সূচি পিছিয়ে যায়। তবে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করলে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। একই সঙ্গে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জনবলও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিংয়ের পর কঠোর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করে ধাপে ধাপে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণ উৎপাদনে পৌঁছানো হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। উভয় ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটি মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা আসবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে।
কসমিক ডেস্ক