বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ভারতের আদানি গ্রুপকে বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি পর্যালোচনার জন্য চিঠি দিয়েছে। গত সপ্তাহে আদানিকে দেওয়া চিঠিতে পিডিবি জানিয়েছে, আদানির বিদ্যুতের দাম বেশি এবং চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। এছাড়া আদানির সব বিল বিরোধপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এ মুহূর্তে আদানির সঙ্গে সকল লেনদেন এবং চুক্তি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আদানির বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি, বিল ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। সুতরাং আদানির পাওনা বা লেনদেন নিয়ে আপাতত কোনো দায়িত্ব নেবে না পিডিবি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবীর খান জানান, বিদ্যুৎ খাতে পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন চুক্তি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুক্তি পর্যালোচনা করতে আদানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি উপদেষ্টা, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা শেষে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
ভারতের আদানি গ্রুপের ১৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ব্যাপক আলোচিত। চুক্তি অনুযায়ী সরকারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে পুরো বিদ্যুৎ নেওয়ার, না নিলেও ক্যাপাসিটি চার্জ ও অন্যান্য চার্জ দিতে হয়। এতে চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আদানির প্ল্যান্টের দুটি ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে ২০২৩ সালের জুনে চালু হয় এবং এখন দৈনিক ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদানিকে বিদ্যুতের বিল দেওয়া হয়েছে ২.৩৩১ বিলিয়ন ডলার, যার বাইরে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বিল বিরোধপূর্ণ।
পিডিবি জানিয়েছে, আদানির বিদ্যুতের দাম প্রতিটি ইউনিটে ১৪.৮৬ টাকা, যেখানে অন্যান্য কয়লাভিত্তিক আইপিপির দাম গড়ে ১১.৭৫ টাকা। একইভাবে কয়লার দামও বাংলাদেশের অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় বেশি পড়ছে, ফলে অতিরিক্ত খেসারত দিতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদানির কয়লার দাম প্রতি টন ৭৬.৯১ ডলার।
পিডিবি আরও জানিয়েছে, গত দুই অর্থবছরে আদানিকে বিদ্যুতের জন্য ২৪ হাজার ৮০ কোটি ৩৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে, ফলে ১৪ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। এ টাকা জনগণের ট্যাক্সের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হতে পারে।
আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ১৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন করেছে। বগুড়া-রওহানপুরে ৪০০ কেভি ও ১০৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন টানা হয়েছে। চুক্তি, বিল ও অন্যান্য শর্ত এখন পর্যালোচনার অধীনে।
কসমিক ডেস্ক