দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, এই সংকটসহ রেস্তোরাঁ খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে দেশের সব রেস্তোরাঁ বন্ধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মো. ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত সরকারের সময়ে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে এলপি গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হতো। একই সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজির বাজার বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়। বর্তমানে সেই সিন্ডিকেট পুরো এলপি গ্যাস বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতেও আলাদা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। ফলে অতিরিক্ত মূল্যে এলপি গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে। এই ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি কমার কথা বলা হলেও বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন নেই। বিগত সরকারের সময় থেকেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা কমলেও ডিসেম্বর মাসে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালনার খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু কর্মজীবী ও স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় খাবারের দাম ইচ্ছেমতো বাড়ানো যাচ্ছে না। এতে অনেক রেস্তোরাঁ লোকসানে পড়ছে।
ইমরান হাসান আরও বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা না গেলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এই খাতে নীরব চাঁদাবাজি চলছে, যার প্রভাব পড়ছে খাবারের দামের ওপর। পাশাপাশি বড় করপোরেট ব্যবসায়ীরা রেস্তোরাঁ খাতে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বড় হুমকি।
সংবাদ সম্মেলনে অনিবন্ধিত স্ট্রিট ফুডের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। সমিতির নেতারা জানান, দেশে প্রায় ৭০ শতাংশ স্ট্রিট ফুডের দোকান নিবন্ধনবিহীন। এসব দোকানের অনেকগুলো স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার বিক্রি করছে, যার ফলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কসমিক ডেস্ক