২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। এক বিবৃতিতে তিনি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো সুস্থ জনগোষ্ঠী। তাই স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করেন। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে এই বরাদ্দ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
ডা. বিটু স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট নিরসনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে প্রস্তাবিত বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্য সূচকে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর ও শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব সাধারণ মানুষের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি বিশেষভাবে হৃদরোগ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্য কমানোর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগকে তিনি স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়নের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগকেও তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বিবৃতির শেষাংশে ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনগণমুখী ও সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কসমিক ডেস্ক