চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ বন্ধ, পণ্য খালাস কার্যত স্থবির The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ বন্ধ, পণ্য খালাস কার্যত স্থবির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 8, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ বন্ধ, পণ্য খালাস কার্যত স্থবির ছবির ক্যাপশন:

চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে রোববার (আজ) সকাল আটটা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে বর্তমানে ১২টি জাহাজ অবস্থান করছে। পাশাপাশি বহির্নোঙরে রয়েছে অর্ধশতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ। ধর্মঘটের কারণে এসব জাহাজ থেকে কোনো পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ থাকায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিবহন কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বন্দর এলাকা ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

এর আগে নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপিওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করেন বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হয়, যার ফলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এক বৈঠকের পর লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে ওই বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

ধর্মঘটের চার দফা দাবি হলো—
১) নিউমুরিং টার্মিনাল বা এনসিটি ডিপিওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা
২) সংকট সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার
৩) আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল
৪) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংগ্রাম পরিষদের দুজন প্রবীণ নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে এই আন্দোলন দমন করা যাবে না।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত থাকে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই বিএনপির লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল

ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই বিএনপির লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল