বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক দিনে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে সাপ্তাহিক হিসাবে এখনো পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭২১.১৫ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম এক শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেলেও শেষ পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলে পুরো সপ্তাহের হিসাবে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪,৭৪০.৯০ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা চাহিদা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির অস্থিরতা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে একই সঙ্গে সুদের হার, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন বাজারে ওঠানামার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। সাধারণত ভূরাজনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে থাকেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যার ফলে দামে স্থিতিশীলতা আসছে না।
এদিকে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে। বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়।
একই সময়ে রুপার দামেও পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেট রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,৭১৫ টাকা। ফলে স্থানীয় বাজারেও মূল্যবান ধাতুগুলোর দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের এই অস্থিরতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি, সুদের হার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দাম।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বর্ণ এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এর বাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য তাই সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক