অনলাইন গেমিং, বেটিং, সাইবার স্পেসে জুয়া, ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় এবং অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে ৬১ জন ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা শতাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে থাকা মোট ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সিআইডির পক্ষে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আদালতে এই আবেদন করেন। তিনি সাইবার ইনভেস্টিগেশনস অ্যান্ড অপারেশনস, সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর দায়িত্বে রয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন অনলাইনে প্রতারণার শিকার হয়ে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫১ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দেন। পরে তদন্তে দেখা যায়, এই অর্থের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি বড় চক্র।
তদন্তে এসএম জুনাইদুল হক, ওমর হীত হিটলু, মেহেদী হাসান তালুকদারসহ মোট ৬১ জন ব্যক্তি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির তদন্তে দেখা গেছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত মোট ৫৯৫টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ২০৭ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
লেনদেন পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, এসব ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন গেমিং, বেটিং, সাইবার স্পেসে জুয়া, হুন্ডি, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার, ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় এবং শুল্ক ফাঁকির মতো অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব হিসাবের মাধ্যমে একটি বড় সাইবার অপরাধ চক্র সক্রিয়ভাবে অর্থ লেনদেন পরিচালনা করছিল।
এই কারণে অপরাধ সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেন বন্ধ করতে এবং তদন্তের স্বার্থে এসব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা জরুরি বলে আদালতে আবেদন করা হয়।
আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং ক্রিপ্টো কারেন্সি লেনদেনের আড়ালে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই মামলায় আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক