বিএনপি শপথ না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাদিক কায়েমের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিএনপি শপথ না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাদিক কায়েমের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 17, 2026 ইং
বিএনপি শপথ না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাদিক কায়েমের ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ না করায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার বিএনপির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করলেন ডাকসু ভিপি ও শিবির নেতা আবু সাদেক কায়েম।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “জনরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করছে না। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি নিজেদের সংস্কারবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার করেছে।”

সাদেক কায়েম আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপির এমন অবস্থান দেশের বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী কাঠামো অটুট রাখার সুপ্ত বাসনার প্রকাশ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি বিএনপি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে জুলাই প্রজন্ম রাজপথে নেমে জুলাইয়ের গণভোটে প্রাপ্ত আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে।

তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি জনগণের রায়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। কোনো রাজনৈতিক দল যদি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে, তবে এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।”

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত শুধু তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এটি দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও বহন করছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ায় দলটি জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার কার্যক্রম থেকে দূরে অবস্থান করছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নবনির্বাচিত বিএনপি এমপিরা সকাল পৌনে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান সংবিধানে নেই এবং আমরা সংবিধান মেনে চলছি। সংবিধান কার্যকর হলে তখন শপথ গ্রহণ করা সম্ভব।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন। কিন্তু ডাকসু নেতা সাদেক কায়েম মনে করছেন, এই অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে। তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, দেশের যুব সমাজ এবং রাজনৈতিক সক্রিয় জনগণ প্রজন্মগতভাবে এই রায় বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনে নামবে।

রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করা একটি রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে ধরা যেতে পারে। এটি দলের ভেতরের রাজনৈতিক শক্তি, জনমত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করছে।

সাদেক কায়েমের হুঁশিয়ারি দেশীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, সংবিধান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের মনোযোগ এখন তীব্র। বিএনপির এই অবস্থান ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং দলীয় নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে আরও সমালোচনা ও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

এভাবে, সাদেক কায়েম বিএনপিকে জনমতের প্রতি দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবহেলা করলে রাজপথে যুব সমাজের শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সাত কলেজে তৈরি হচ্ছে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’, এক দফা দাবিতে আন্দোলনে

সাত কলেজে তৈরি হচ্ছে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’, এক দফা দাবিতে আন্দোলনে