মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় কৃষকের মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় কৃষকের মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় কৃষকের মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা ছবির ক্যাপশন:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আসামি আলম মণ্ডল (৫৫)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. আব্দুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলম মণ্ডল আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক। রায় ঘোষণার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রিনাত ফেরদৌস রিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর দুপুরে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী। তার বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন এবং মা গবাদিপশু আনতে বাড়ির বাইরে গেলে মেয়েটি একা ছিল। সেই সুযোগে আলম মণ্ডল ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশী এক নারী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর বাবা আক্কেলপুর থানায় আলম মণ্ডলকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি মামলার বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। আদালত আরও বিবেচনায় নেয় যে, বিচারিক আদালতে আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

সব তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে আদালত অভিযোগকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে মনে করেন। এরপর আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

এই মামলার রায়ের মাধ্যমে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। তবে আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিদ্যমান থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে হিলিয়াম সরবরাহে ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে হিলিয়াম সরবরাহে ধাক্কা