দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছবির ক্যাপশন: দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি—ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া চার্জশিট আমলে নিয়ে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত এ আদেশ দেন।

রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আদালতে জমা দিতে।

মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই কর্মকর্তা গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন।

তবে তদন্তে দেখা গেছে, তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ঘোষিত সম্পদের তুলনায় অনেক বেশি।

দুদকের তদন্তে বেনজীর আহমেদের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। বিভিন্ন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর তার নিট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা।

অর্থাৎ তদন্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং প্রকৃতি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই অবৈধ অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধ অর্থকে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না সে বিষয়ে পুলিশকে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, চার্জশিট আমলে নেওয়ার মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

পরবর্তী ধাপে আদালত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে হাজির করার চেষ্টা করবে এবং এরপর মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
তেহরানসহ ১০০ শহর রণক্ষেত্র, ইরানজুড়ে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ

তেহরানসহ ১০০ শহর রণক্ষেত্র, ইরানজুড়ে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ