ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলে অতিরিক্ত কয়েক ডজন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য একাধিক সামরিক বিকল্প পর্যালোচনা করেন। ওই বৈঠকের পরই সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের এই পরিকল্পনা সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় অতিরিক্ত আঘাত হানা এবং ভূগর্ভস্থ নির্মাণাধীন পিকাক্স মাউন্টেন সাইটে সম্ভাব্য অভিযানও বিবেচনায় রয়েছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো অভিযান সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে বৃহত্তর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন অবস্থান মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালী ও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, সম্প্রতি বন্দর আব্বাসের কাছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্রের আশপাশে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করা হয়েছে, যাতে রসদ, গোলাবারুদ ও সেনা চলাচল ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে ইরানও জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি। যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সেনারা কয়েক মাস আগেই ওই ঘাঁটি থেকে সরে গিয়েছিল।
বর্তমানে তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩০টি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দরে আরও প্রায় ৩০টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। সংঘাতের শুরুর সময়কার সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আরও কয়েক ডজন বিমান সেখানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
তবে এই পরিকল্পনা ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক সামরিক বিমান মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ সামরিক বিমানের সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানালেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিমান মোতায়েনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েল সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
কসমিক ডেস্ক