যুদ্ধোত্তর গাজা উপত্যকার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস) নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই পর্ষদের অধীনে গঠিত গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে তেল আবিব।
শনিবার এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল জানায়, হোয়াইট হাউস ঘোষিত গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড গঠনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমন্বয় করা হয়নি। ইসরাইলের দাবি, এই উদ্যোগ দেশটির বিদ্যমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আঞ্চলিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসরাইলের আপত্তির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বোর্ডের সদস্য তালিকা। বিশেষ করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের একজন কর্মকর্তাকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটি। ইসরাইল মনে করছে, এই দুই দেশের ভূমিকা গাজা ইস্যুতে তাদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বোর্ড অব পিসের অধীনে গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড গঠনের ঘোষণা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই দেওয়া হয়েছে এবং এটি দেশটির নীতিগত অবস্থানের পরিপন্থী। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে শনিবার থেকেই বোর্ড অব পিস গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মিসর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা ও কানাডার নেতাদের এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই বোর্ডের মূল লক্ষ্য হবে গাজায় যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বোর্ড অব পিসে আরও যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, জ্যেষ্ঠ আলোচক জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ। এদের অনেকেই একই সঙ্গে গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ গাজা ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তবে ইসরাইলের প্রকাশ্য আপত্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক