মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল উপহার দেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মাচাদো সাংবাদিকদের বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতি ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি এই মেডেল উপহার দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প আদৌ সেটি গ্রহণ করেছেন কি না—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট আগেই জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার বা তার মেডেল হস্তান্তর, ভাগ কিংবা প্রত্যাহার করা যায় না। অর্থাৎ প্রতীকীভাবে উপহার দেওয়া হলেও সম্মানটি আইনগতভাবে মাচাদোর কাছেই থাকবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও মাচাদোর মধ্যে এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকের পর মাচাদো ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের একাধিক সিনেটরের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠকের জন্য আগ্রহী ছিলেন। তবে তিনি মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে ভেনেজুয়েলার সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন মাচাদোর এখনো নেই। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে, যার অংশ হিসেবেই মাচাদোর এই কূটনৈতিক তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেয়। এতে দেশটিতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, মাচাদো সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন—দমন-পীড়নের পরিস্থিতি এখনো মাদুরোর শাসনামলের মতোই রয়েছে। তিনি ভেনেজুয়েলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ভেনেজুয়েলা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
কসমিক ডেস্ক