২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 17, 2026 ইং
২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা গুরুতর সাইবার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। একই সঙ্গে তিনি এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনেও বাইরের হস্তক্ষেপ বা কারচুপির ঝুঁকি থেকে যাবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নির্বাচনী অবকাঠামো পর্যাপ্ত নিরাপদ নয় এবং এটি সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটারের এমন একটি নিরাপদ ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং বাইরের হস্তক্ষেপ প্রায় অসম্ভব হবে।

এছাড়া ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’–এর কিছু সদস্য চীনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, নির্বাচনী নিরাপত্তার এই দুর্বলতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় জাতীয় নিরাপত্তা সংকট।

তবে অতীতের সরকারি তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি সাইবার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন জনমতের প্রবণতা বোঝার উদ্দেশ্যে। তবে ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের ফল পরিবর্তন বা ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি

এদিকে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা ৬০টিরও বেশি মামলা করেছিলেন। কিন্তু কোনো আদালতেই এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে ভোট পুনর্গণনা, বিভিন্ন নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও ফল পরিবর্তনের মতো কোনো অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প 'সেভ অ্যাক্ট' (Safeguard American Voter Eligibility Act) পাসের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, আইনটি কার্যকর হলে লাখো যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে জটিলতায় পড়তে পারেন। উল্লেখ্য, বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী নাগরিক নন—এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া আগেই অবৈধ এবং এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

ট্রাম্প তার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কেরও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম নির্বাচন-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এবিসি ও এনবিসির মতো সম্প্রচারমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চাং বলেন, চীন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এর ফল নির্ধারণ করেন মার্কিন জনগণ। চীন অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কর্মসংস্থানে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে আইএলও

কর্মসংস্থানে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে আইএলও