আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় তিন দেশের নেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোটের ঘোষণা এলো।
চুক্তির আওতায় কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও সেটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। এর মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ করতে বা অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না। তবে কোনো ধরনের চাপ বা জবরদস্তির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় শুরুর পর তারা ৫১টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি দুটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হওয়ায় সেখানে চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তিতে হামলার ঘটনায় তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা বিবেচনার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক