সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা রাখা হয়েছে, যেখানে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলা, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। যদিও বাস্তবে পারস্পরিক সামরিক হস্তক্ষেপের ধারা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ তুরস্ক ও পাকিস্তান বর্তমানে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে।
চলমান আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও তাদের মিত্রদের সব ধরনের হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে কয়েক দশকের মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটে তিন দেশের সক্ষমতা একে অপরকে পরিপূরক করে। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সামর্থ্য, তুরস্কের রয়েছে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পাকিস্তানের রয়েছে অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা। ফলে পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নতুন এই চুক্তি মানেই ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক জোট নয়। তুরস্ক ও পাকিস্তান উভয়ই নিজেদের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষের দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চায় এবং সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে চুক্তিটি শুধু ইরান নয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের পথও বিবেচনা করছে।
সব মিলিয়ে, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করলেও এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের আঞ্চলিক সংকট, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর।
কসমিক ডেস্ক