পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে পুলিশ হেফাজতে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত ৫ আগস্ট আনমোল ও আমিনা নামে পরিচিত দুই ননদ-ভাবির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী এবং অন্যজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী।
এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট দুপুরে এক বাসিন্দা দুই নারীর বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। একই দিন পুলিশ একটি এফআইআর করে এবং দুই নারীকে আলাদা থানায় রাখা হয়। একজনকে লিটন রোড থানায় এবং অন্যজনকে টাউনশিপ থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, থানায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। আনমোল থানায় মারা যান এবং আমিনাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা বলা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়নি। আরও পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের দাবি, মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং পুলিশ কর্মকর্তারা চুপ থাকার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, দুই নারী দীর্ঘদিন মাদক ব্যবহার করতেন এবং অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এইচআরডব্লিউর জ্যেষ্ঠ এশিয়া সহযোগী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া গসম্যান বলেছেন, পাকিস্তানের আইন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তে কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয় এবং দায় প্রমাণিত হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তানে ২০২২ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ ও শাস্তি আইন করা হলেও এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ওই আইনের অধীনে ৩৬৪টি তদন্ত শুরু হলেও মাত্র ৫২টি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলায় রূপ নেয়। পাঞ্জাবে ২৬৬টি তদন্তের বিপরীতে এফআইআর হয়েছে মাত্র ১৯টি ঘটনায়।
এইচআরডব্লিউ দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঞ্জাব পুলিশের বাইরে স্বাধীন তদন্তকারী দিয়ে তদন্ত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকর তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সব আলামত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের হেফাজতে নিরাপত্তা, দ্রুত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বাধীন চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কসমিক ডেস্ক