ঢাকায় ভারত–পাকিস্তান সৌজন্য, সম্পর্ক কি নতুন পথে? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঢাকায় ভারত–পাকিস্তান সৌজন্য, সম্পর্ক কি নতুন পথে?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 3, 2026 ইং
ঢাকায় ভারত–পাকিস্তান সৌজন্য, সম্পর্ক কি নতুন পথে? ছবির ক্যাপশন:
ad728

২০২৫ সালের শেষ দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত করমর্দন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে তার এই সৌজন্য বিনিময় এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে তিক্ত পর্যায়ে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দাফনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। সেই সময় সংসদ ভবনের একটি কক্ষে আয়াজ সাদিকের দিকে এগিয়ে গিয়ে জয়শঙ্কর করমর্দন করেন। পাকিস্তানের স্পিকার পরে জানান, জয়শঙ্কর নিজেই এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক পরিচয় ছাড়াই সৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এই দৃশ্যটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এই কারণে যে, মাত্র কয়েক মাস আগেই এশিয়া কাপে ভারতের পুরুষ, নারী ও অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। খেলাধুলার মাঠে সেই আচরণই তখন দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল।

চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান চার দিনব্যাপী এক তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামলেও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বক্তব্য, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক মহড়া উত্তেজনাকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। এর আগে এপ্রিল মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় হওয়া করমর্দনকে পাকিস্তানের অনেক বিশ্লেষক ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মুস্তাফা হায়দার সাইয়েদ বলেন, এটি সম্পর্কের ন্যূনতম স্বাভাবিকতার প্রকাশ। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ন্যূনতম সৌজন্যও দুই দেশের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল।

তবে ভারতের বিশ্লেষকদের একাংশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। হিন্দুস্তান টাইমসের পররাষ্ট্র সম্পাদক রেজাউল হাসান লস্কর বলেন, একই কক্ষে উপস্থিত থাকলে এমন সৌজন্য বিনিময় অস্বাভাবিক নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার ছবি ভারতীয় কোনো সরকারি মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি, যা থেকে বোঝা যায়—নয়াদিল্লি এটিকে বড় কোনো বার্তা হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়নি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত সরদার মাসুদ খান মনে করেন, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি ছাড়া এমন করমর্দন সম্ভব নয়। তার মতে, সিন্ধু পানি চুক্তিতে ভারত ফিরে এলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় আস্থা-বর্ধক পদক্ষেপ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে ভারত।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—২০২৬ সালে কি নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে অন্তত ন্যূনতম যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হতে পারে? বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া দূরের কথা, সীমিত সংলাপ শুরু করাও হবে বড় অগ্রগতি।

বরফ পুরোপুরি গলবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ঢাকার ওই করমর্দন স্পষ্ট করে দিয়েছে—দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে প্রতীকী ঘটনাও কখনো কখনো বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের মাঠে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শফিকুল

ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের মাঠে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শফিকুল