যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলা ‘অন্যায় যুদ্ধে’ সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ।
রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফের বক্তব্য প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, এই সংঘাতে ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই বিজয় অর্জন করেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক তাদের জন্য গর্ব ও বিজয়ের উৎস। তার মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
গালিবাফের এমন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করে আসছেন। ফলে যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফও তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের দাবি পূরণ এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত না করা পর্যন্ত দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পিছু হটবে না।
জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি জনগণের দৃঢ় ইচ্ছা ও সংকল্পের প্রতি সম্মান জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। জনগণের অধিকার রক্ষা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান থেকে তারা সরে যাবে না বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণের বিষয় রয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয় দুটি এক নয়। প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। এসব শর্তের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়ার বিষয় রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক