মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে “ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করা হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা। তার ভাষায়, “আমরা যদি এই চুক্তি না করতাম, তাহলে হয়তো আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে সংঘাত চলতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান গ্রহণ করায় বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়ত।
চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে এর বন্ধ থাকা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় সংকট তৈরি করেছিল। নতুন সমঝোতার ফলে এই রুট আবারও চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
একই সঙ্গে চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরান ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন, সংগ্রহ বা অর্জনের চেষ্টা করবে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, এটি এখনো একটি প্রাথমিক সমঝোতা, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নয়। আগামী কয়েক মাসে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। তবে লেবানন ইস্যু, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। ফলে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে এটি সম্ভাব্য শান্তির পথ খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবায়নের জটিলতা নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে। আগামী দিনগুলোতে এই সমঝোতা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান নজরদারির বিষয়।
কসমিক ডেস্ক