বিশ্বকাপ ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ায় ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক মাইকেল উড। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি তার বিয়ের অনুষ্ঠান এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাইকেল উড এক বছর আগে তার বাগদান সম্পন্ন করেন। পরিকল্পনা ছিল আসন্ন বিশ্বকাপের ঠিক আগের সময়, অর্থাৎ ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে তিনি বিয়ে সম্পন্ন করবেন। তবে জাতীয় দলের কোচ ড্যারেন বেজেলি তাকে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর তার সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।
দলে জায়গা পাওয়া উডের জন্য একদিকে যেমন বড় অর্জন, অন্যদিকে এটি তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় সমন্বয় পরিবর্তনও বটে। কোচের পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি বিশ্বকাপ দলে থাকবেন—এমন ধারণাও আগে তার ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে দলে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি ম্যাক্স ক্রোকোম্ব ও অ্যালেক্স পলসেনের পর তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উড জানান, তার বাগদত্তা জানা রেন্টন পুরো বিষয়টি বুঝে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো সমস্যা নয়, কারণ বিশ্বকাপের মতো সুযোগ জীবনে খুব কমই আসে। তিনি আরও জানান, তারা পরবর্তী বছর বিয়ের আয়োজন করবেন।
ক্লাব ফুটবলেও সাম্প্রতিক সময়ে উড বেশ ভালো ফর্মে ছিলেন। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে মূল গোলরক্ষকের জায়গা হারালেও তিনি ফিরে এসে অকল্যান্ডের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন। বিশেষ করে এ-লিগের প্লে-অফে পেনাল্টি শুটআউটে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর গ্র্যান্ড ফাইনালে ক্লিন শিট রেখে দলকে শিরোপা জয়ে সাহায্য করেন, যা ছিল অকল্যান্ডের প্রথম বড় লিগ শিরোপা।
এই পারফরম্যান্সই তাকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত হতে পারে, তবে তিনি দলের সঙ্গে থেকে সমর্থন দেওয়ার ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। উড বলেন, তার ভূমিকা স্পষ্ট—তিনি মূলত অন্য গোলরক্ষকদের সহায়তা করবেন এবং সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেবেন।
নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে তুলনামূলকভাবে কম র্যাঙ্কিংয়ের দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে। দলটি গ্রুপ পর্বে ইরান, মিশর এবং বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। তাই প্রতিযোগিতাটি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে মাইকেল উডের এই সিদ্ধান্ত কেবল একজন খেলোয়াড়ের পেশাগত দায়িত্ববোধই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সুযোগ কাজে লাগানোর এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক