ইরান সরকার কি চলমান বিক্ষোভ সামাল দিতে পারবে? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান সরকার কি চলমান বিক্ষোভ সামাল দিতে পারবে?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
ইরান সরকার কি চলমান বিক্ষোভ সামাল দিতে পারবে? ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইরান আবারও ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হয়ে চলমান বিক্ষোভ ইতিমধ্যে দেশটির সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এই আন্দোলনের তীব্রতা এখনো ২০২২ সালে মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মতো নয়, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিকে শাসকগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে। হঠাৎ করে ইরানি রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা প্রথমে রাস্তায় নামেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন শিক্ষার্থী ও তরুণ শ্রেণির মানুষ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো—মাসা আমিনি–কেন্দ্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা নারী ও কিশোরীদের উপস্থিতি এবার তুলনামূলকভাবে কম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, নতুন করে শুরু হওয়া এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষকে। এসব পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হলো আস্থার সংকট। ইরানের সংস্কারপন্থী শিবিরের এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইসলামি পোশাকবিধি, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় আদর্শ—এই বিষয়গুলো ৩০ বছরের কম বয়সী জনগোষ্ঠীর কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ এই তরুণরাই দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কার ভাষায়, ‘এটি শুধু রিয়ালের পতন নয়, এটি বিশ্বাসের পতন।’ তাঁর মতে, সরকার এত দিন দমন-পীড়ন ও সীমিত ছাড়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও সেই কৌশল এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ একদিকে অর্থনৈতিক দাবিকে বৈধ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে রাজপথে সহিংসতা ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে। এই দ্বিমুখী নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

এর পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিতেও ইরানের প্রভাব কমেছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইসরায়েলের হামলা এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি তেহরানের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এসব ইস্যু নিয়েও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামনে এখন সহজ কোনো পথ নেই। সরকার টিকে থাকবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরানের সমাজে পরিবর্তনের দাবি আর আগের মতো উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আতঙ্কে রাজধানী, ২৪ ঘণ্টায় চার নারীর মরদেহ উদ্ধার

আতঙ্কে রাজধানী, ২৪ ঘণ্টায় চার নারীর মরদেহ উদ্ধার