হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আন্দ্রাস বাকারাকে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী তিসা পার্টির সমর্থনে তিনি আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই পদে নির্বাচিত হন। তবে বিরোধী ফিদেস পার্টির সংসদ সদস্যরা ভোটে অংশ নেননি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে আন্দ্রাস বাকা আগের সরকারের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের দীর্ঘ শাসনামলে রাষ্ট্রের ওপর একটি দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষমতার শাখার মধ্যে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও ভারসাম্য কার্যকর ছিল না।
তবে বাকা প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব দেশের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করা—এমনকি যারা তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদেরও। নতুন হাঙ্গেরি প্রতিশোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এপ্রিলের নির্বাচনে পেতের মাগিয়ারের জয় ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। ক্ষমতায় এসে মাগিয়ার দেশে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি অরবানের আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট তামাশ শুইয়ককে সরানোও মাগিয়ারের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল। পরবর্তী সময়ে তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয় এবং নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে আন্দ্রাস বাকা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
এদিকে ফিদেস পার্টি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে অভিযোগ করেছে, তিসা পার্টি বেআইনিভাবে শুইয়কের মেয়াদ শেষ করেছে। দলটি নতুন সরকারকে কর্তৃত্ববাদী বলেও সমালোচনা করেছে। তবে তিসা পার্টি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
নতুন সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বাকা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সংশোধিত সাংবিধানিক ব্যবস্থায় তার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারবে।
কসমিক ডেস্ক