এশিয়ায় শীর্ষে, বিশ্বে ষষ্ঠ গ্রিন ইউনিভার্সিটির রোভার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এশিয়ায় শীর্ষে, বিশ্বে ষষ্ঠ গ্রিন ইউনিভার্সিটির রোভার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 10, 2026 ইং
এশিয়ায় শীর্ষে, বিশ্বে ষষ্ঠ গ্রিন ইউনিভার্সিটির রোভার ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক স্পেস রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় বড় সাফল্য অর্জন করেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (জিইউবি) মার্স রোভার টিম। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ (এআরসি) ২০২৬-এ ২০টি ফাইনালিস্ট দলের মধ্যে বিশ্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের দলটি। একই সঙ্গে এশিয়ার অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে তারা।

২৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে ৪০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও কঠোর বাছাইয়ের পর ২০টি দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে জিইউবি মার্স রোভার টিম।

প্রতিযোগিতায় রোভার তৈরির পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নকশা, সমস্যা সমাধান, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দলগত সমন্বয় যাচাই করা হয়। বাস্তবসম্মত মহাকাশ মিশনের আদলে বিভিন্ন জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় প্রতিযোগীদের।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, অধ্যবসায় ও দলগত চেতনার স্বীকৃতি হিসেবে জিইউবি দল পেয়েছে ‘মোস্ট রেজিলিয়েন্ট টিম’ সম্মাননাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই সাফল্য শুধু গ্রিন ইউনিভার্সিটির নয়, সমগ্র বাংলাদেশের। তাঁর মতে, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বসেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই। দলের মেন্টর আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, দল গঠন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সীমিত প্রাপ্যতা এবং অর্থায়ন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণায় সরকারি সহায়তা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তুরস্কে দলের হয়ে মাঠে ছিলেন ছয়জন শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন স্টুডেন্ট টিম লিড রেজওয়ান ইনতেসার, ম্যানেজমেন্ট সাব-টিম লিড শাহরিয়ার বিন সালাম, সফটওয়্যার অ্যান্ড অটোনমাস সাব-টিম লিড ময়লুন হাসান জিশান, মেকানিক্যাল ডিজাইন সাব-টিম লিড বিবেক দত্ত সর্গ, মেকানিক্যাল ফ্যাব্রিকেশন সাব-টিম লিড বিশাল দত্ত স্বপ্ন এবং ইলেকট্রিক্যাল সাব-টিম লিড মো. শাহরিয়ার মাহমুদ।

দলের সদস্যদের মতে, সীমিত প্রস্তুতি ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে তারা প্রতিটি মিশন শেষ করেছেন। এমনকি ভিসা পাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তুরস্কে গিয়ে রোভার সংযোজন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়েছে তাদের।

জিইউবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে রোবোটিক্স ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকাশে বাংলাদেশের তরুণদের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও এই অর্জনকে দেখা হচ্ছে।

অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক স্পেস রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা। বাস্তবধর্মী মহাকাশ অভিযানের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রকৌশল দক্ষতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, দলগত সমন্বয় ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রংপুরের পীরগাছায় জালনোট চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

রংপুরের পীরগাছায় জালনোট চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার