বর্তমান সময়ে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেক নারী-পুরুষ তুলনামূলক বেশি বয়সে বিয়ে করছেন। আবার বিয়ের পরও পেশাগত জীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় অনেকে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে পরবর্তী সময়ে সন্তান ধারণে নানা জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. বাণী কুমার বুসের মতে, বন্ধ্যত্বের বিষয়টি নিয়ে নারী-পুরুষ উভয়ের সচেতনতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে সামাজিকভাবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু নারীকেই দায়ী করার প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষেরও বন্ধ্যত্বজনিত সমস্যা থাকতে পারে এবং সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্বজুড়েই বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বয়সে বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি। একই সঙ্গে পুরুষদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন পরিবর্তনও প্রজনন সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নারীর বয়সের সঙ্গে সন্তান ধারণের সক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ডা. বাণী কুমার। তার মতে, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সকে সন্তান ধারণের জন্য তুলনামূলক অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে থাকে এবং ৩৫ বছরের পর এই হ্রাস আরও স্পষ্ট হয়। ৪০ বছরের পর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
এ কারণে বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রি-প্রেগন্যান্সি কাউন্সেলিং নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বন্ধ্যত্বের কারণ ব্যক্তি ও দম্পতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু বয়স বা একটি কারণকে দায়ী না করে নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক