ফুসফুসের ক্যান্সার বিশ্বের অন্যতম গুরুতর রোগগুলোর একটি। এ রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। সাধারণ কাশি, হালকা শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় রোগ অনেকটা এগিয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুস ক্যান্সারের স্ক্রিনিং সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। মূলত ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী এমন ব্যক্তিদের জন্য বছরে একবার লো-ডোজ সিটি স্ক্যান বা LDCT বিবেচনা করা হয়, যাদের অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে ধূমপান করছেন অথবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন—এমন ব্যক্তিরাও এই ঝুঁকির আওতায় পড়েন।
‘প্যাক-ইয়ার’ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ধূমপানের মাত্রা বোঝানো হয়। যেমন, প্রতিদিন এক প্যাকেট সিগারেট ২০ বছর ধূমপান করলে তা ২০ প্যাক-ইয়ার। একইভাবে প্রতিদিন দুই প্যাকেট করে ১০ বছর ধূমপান করলেও ২০ প্যাক-ইয়ার হিসেবে ধরা হয়।
সাধারণ বুকের এক্স-রে দিয়ে খুব ছোট টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে লো-ডোজ সিটি স্ক্যান তুলনামূলক কম তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে ফুসফুসের বিস্তারিত ছবি তৈরি করে। এর মাধ্যমে উপসর্গ প্রকাশের আগেই ছোট টিউমার শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে শুধু ধূমপানই ফুসফুস ক্যান্সারের একমাত্র কারণ নয়। বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং কিছু বংশগত কারণেও অধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে। যদিও গড় ঝুঁকি কম থাকায় অধূমপায়ীদের জন্য নিয়মিত LDCT স্ক্রিনিং সাধারণত সুপারিশ করা হয় না।
কারও বয়স, ধূমপানের ইতিহাস বা অন্যান্য ঝুঁকি স্ক্রিনিংয়ের উপযোগী কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, রক্ত ওঠা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে স্ক্রিনিংয়ের পরিবর্তে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কসমিক ডেস্ক