সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী শ্রমিক বাচ্চু মিয়া (৩৫) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার খবরে তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) সৌদি স্থানীয় সময় ইফতারের আগ মুহূর্তে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বাচ্চু মিয়াসহ দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন। অপর নিহত ব্যক্তির বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় বলে জানা গেছে। এছাড়া এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পটির নিকটবর্তী একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল।
নিহত বাচ্চু মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইস উদ্দিনের মেজো ছেলে। তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাদের মধ্যে একজন সন্তান মানসিক প্রতিবন্ধী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।
সোমবার সকালে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের কান্না ও বিলাপে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বিলাপ করছিলেন স্ত্রী জোছনা আক্তার। তার তিন সন্তান বাবাকে হারানোর শোকে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন বাচ্চু মিয়া।
অভাবের তাড়নায় প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার স্বপ্ন ছিল তার। তবে দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও পরিবারের স্বচ্ছলতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেননি। বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন এবং সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাচ্চু মিয়া অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে তিনি বিদেশে কাজ করছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী নিহতের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম সবুজ ও মোবারক হোসেন বলেন, পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তিনটি ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের কাছে পরিবারের জন্য সহায়তা এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তিনি বিষয়টি খোঁজখবর রাখছেন। দলের পক্ষ থেকেও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং তাদের সহায়তার জন্য সরকার পর্যায়ক্রমে আরও উদ্যোগ নেবে।
প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় বাচ্চু মিয়ার এই মর্মান্তিক মৃত্যু তার পরিবারকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন সরকারের সহায়তা এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন।
কসমিক ডেস্ক