ত্বকের যত্নে গ্লিসারিন একটি পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত উপাদান। পানি ও সুগন্ধির পর প্রসাধনীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি হলো গ্লিসারিন। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখতে ও সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে সরাসরি বা অপরিশোধিত (undiluted) গ্লিসারিন ব্যবহার করলে উল্টো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গ্লিসারিন ব্যবহারে কিছু সতর্কতা জানা জরুরি।
গ্লিসারিন কী
গ্লিসারিন, যাকে গ্লিসারলও বলা হয়, একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি সাধারণত উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণিজ চর্বি থেকে তৈরি করা হয়। গ্লিসারিন স্বচ্ছ, বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং কিছুটা ঘন ও মিষ্টি স্বাদের তরল।
গ্লিসারিন একটি হিউমেকট্যান্ট। অর্থাৎ এটি ত্বকের গভীর স্তর ও আশপাশের বাতাস থেকে পানি টেনে এনে ত্বকের উপরের স্তরকে আর্দ্র রাখে। এ কারণেই ময়েশ্চারাইজার, লোশন, সাবানসহ নানা স্কিন কেয়ার পণ্যে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের ওপরের স্তর আর্দ্র রাখতে গ্লিসারিন অনেক জনপ্রিয় উপাদানের চেয়েও কার্যকর।
ত্বকের জন্য গ্লিসারিনের উপকারিতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লিসারিন ত্বকের জন্য বিভিন্নভাবে উপকারী। এটি ত্বকের উপরিভাগে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর শক্তিশালী করে এবং ত্বককে জ্বালা ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ক্ষত সারাতে সহায়তা করে, শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সোরিয়াসিসের উপসর্গ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে।
গ্লিসারিন কি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে
কিছু ক্ষেত্রে গ্লিসারিন ত্বকের ক্ষতির কারণও হতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে গ্লিসারিন ত্বকের ভেতরের স্তর থেকে পানি টেনে নিতে পারে। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং কখনো কখনো ফোসকাও পড়তে পারে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত খাঁটি গ্লিসারিন সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন।
অনেকে গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, গোলাপজলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী গুণ রয়েছে, যা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
গ্লিসারিন সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। ব্যবহার করার পর যদি ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকানি হয় কিংবা ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
মুখে গ্লিসারিন ব্যবহারের নিয়ম
যদি ব্যবহার করতেই চান, তাহলে প্রথমে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরপর তুলা বা টিস্যুতে অল্প গ্লিসারিন নিয়ে হালকাভাবে মুখে লাগাতে হবে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এটি নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয়।
কোন পণ্য ব্যবহার করবেন
বাজারে গ্লিসারিনযুক্ত অসংখ্য প্রসাধনী পাওয়া যায়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য গ্লিসারিন সাবান অনেক সময় ভালো বিকল্প হতে পারে। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
অন্যান্য ব্যবহার
ত্বকের যত্ন ছাড়াও গ্লিসারিন ব্যবহৃত হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায়, বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে, খাদ্যে মিষ্টি ও ঘনত্ব বাড়াতে এবং সংরক্ষণকারী উপাদান হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) গ্লিসারিনকে সাধারণভাবে নিরাপদ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, গ্লিসারিন ত্বকের জন্য উপকারী হলেও মুখের ত্বক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় খাঁটি গ্লিসারিন সরাসরি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সচেতন ও সঠিক ব্যবহারই ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সহায়তা করবে।
কসমিক ডেস্ক