সপ্তাহজুড়ে কাজের চাপ, অফিস, পড়াশোনা, সংসার কিংবা নিত্যদিনের ব্যস্ততায় অনেকেরই নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। একটু বিশ্রাম নিলেই অনেক সময় মনে হয়, এতে বুঝি মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। তবে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে কাজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রামও প্রয়োজন। আর এই বার্তাই সামনে আনে বিশ্ব অলস দিবস।
প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয়। কোথাও এটি ‘ন্যাশনাল লেজি ডে’ নামেও পরিচিত। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য মানুষকে অলস করে তোলা নয়; বরং ব্যস্ত জীবনে বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা।
বিশ্রাম কেন গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘ সময় কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব মানুষের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও বিরতিহীন ব্যস্ততার কারণে ক্লান্তি এবং উদ্বেগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কাজের প্রতি মনোযোগও কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, নিয়মিত বিরতি নেওয়া ও কিছুটা সময় নিজের মতো করে কাটানো মনকে সতেজ করতে সহায়তা করে। প্রিয় বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা কিংবা কিছুক্ষণ নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নেওয়া হতে পারে এর অংশ। কিছু সময় মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকাও মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।
যেভাবে কাটাতে পারেন দিনটি
বিশ্ব অলস দিবসে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখতে পারেন। অ্যালার্ম ছাড়াই পর্যাপ্ত ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয় সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখা, বই পড়া কিংবা গান শোনার মতো কাজ করা যেতে পারে। চাইলে কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থেকেও নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া যায়।
দিবসটির ইতিহাস
বিশ্ব অলস দিবসের সূচনা ঠিক কবে বা কার উদ্যোগে হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা হয়, ব্যস্ত জীবনের মাঝে বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই দিনটির প্রচলন হয়েছে।
সব সময় কাজ করলেই যে বেশি সফল হওয়া যায়, তা নয়। কাজের পাশাপাশি শরীর ও মনের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামও জরুরি। তাই নিজের জন্য কিছুটা সময় নেওয়া বা ধীরগতিতে চলার জন্য অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।
কসমিক ডেস্ক