নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গভীর রাতে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পাথরবোঝাই ট্রাক সড়কের পাশের একটি বসতঘরের ওপর উল্টে পড়লে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী শামিমা আক্তার সেতুর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার ছোট বোন মিতু গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার নলদি বাজারসংলগ্ন নলদি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শামিমা আক্তার সেতু স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. হাফিজার মোল্যার মেয়ে এবং নলদি বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত মিতু (১৩) বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাথরবোঝাই ট্রাকটি লোহাগড়া উপজেলার মিঠাপুর এলাকা হয়ে ব্রাহ্মণডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিল। পথে একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলায় চালক বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে ভুলবশত নলদি গ্রামের সরু সড়কে প্রবেশ করেন। সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে চলার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি বসতঘরের ওপর উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে দুই বোন ঘুমিয়ে ছিলেন। ট্রাক ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ট্রাকের অংশ ও পাথর সরিয়ে শামিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত মিতুকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
কসমিক ডেস্ক