পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রমের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রশাসনিক ও আর্থিক উভয় ধরনের অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠানে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য সনদে নিয়োগ, বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত অনিয়মসহ হিসাব-নিকাশে অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে সরকারি কোষাগারে বড় অঙ্কের অর্থ ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিআইএ’র সুপারিশ অনুযায়ী, অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা বা বেহাত হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি পুনরুদ্ধারেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকরা তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। এতে প্রতিষ্ঠানের নাম, অনিয়মের ধরন এবং সুপারিশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রকাশিত এই তালিকা শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আত্মসমালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ দেবে।
সার্বিকভাবে, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এমন প্রতিবেদন প্রকাশকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সুপারিশ বাস্তবায়ন ও অর্থ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেটিই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়।
কসমিক ডেস্ক