দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা কার্যত বাতিল করে নামমাত্র পর্যায়ে সীমিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, কোচিংনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার প্রবণতা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে প্রাথমিক পর্যায়ে কঠোর ভর্তি পরীক্ষা আর থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণাধর্মী মনোভাব এবং সৃজনশীলতা বিকাশে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রামের ফাইনাল আগামী ২৯ জুন চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, আগামী শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকার একটি আধুনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবজীবনের সঙ্গে সংযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করাই মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যা প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণিতে সম্প্রসারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত ও বিজ্ঞান ল্যাব স্থাপন এবং খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন এই উদ্যোগে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
কসমিক ডেস্ক