চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় পাহাড়ের মাটি কাটতে গিয়ে টিলা ধসে মো. সায়েম (১৫) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় সোহেল রানা নামে আরও এক কিশোর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা গ্রামের বড়থলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সায়েম ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া গ্রামের মৃত বশর আহমেদের ছেলে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে সায়েম টিলার পাদদেশে একটি জায়গা কিনেছিলেন। সেখানে বসতভিটার মাটি ভরাটের উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকদিন ধরে নিজেই পাশের টিলা থেকে মাটি কাটছিলেন।
ঘটনার দিন রাতেও তিনি একই কাজ করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে সোহেল রানা নামের আরেক কিশোর উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ টিলার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং দুজনই মাটির নিচে চাপা পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় দুজনকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল রানা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর বাড়িতে ফিরে যান।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সায়েমের মা ছালেহা বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তার এই হৃদয়বিদারক বক্তব্য স্থানীয়দেরও আবেগাপ্লুত করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পাহাড় বা টিলা কেটে মাটি সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকাল বা আর্দ্র আবহাওয়ায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা আরও বেশি থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সায়েমের অকাল মৃত্যু শুধু তার পরিবার নয়, পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক