তুরস্কের বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ওয়ান লাভ-এ ‘ইশিল’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া অভিনেত্রী ইসি ইরতেম মাত্র ৩৫ বছর বয়সে আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। জন্মদিন উদযাপনের মাত্র একদিন পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
আইনজীবী উগুর গোক্কোয়ুন জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নিজ বাসায় অভিনেত্রীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে ছিলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।
প্রাথমিক চিকিৎসা প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াই (হার্ট অ্যাটাক) তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মৃত্যুর মাত্র একদিন আগেই তিনি নিজের ৩৫তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। জীবনের এমন আনন্দময় মুহূর্তের পরপরই আকস্মিক এই মৃত্যু ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা গুজব ও আত্মহত্যার জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও তার আইনজীবী তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন, এই শোকাবহ সময়ে যেন কোনো ধরনের গুজব বা ভুল তথ্য না ছড়ানো হয়।
১৯৯১ সালের ১৪ জুন তুরস্কের সিভাসে জন্মগ্রহণ করেন ইসি ইরতেম। ছোটবেলা থেকেই শিল্প ও অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ২০১৪ সালে তিনি ইয়াসার ইউনিভার্সিটির ‘অপেরা অ্যান্ড ভোকাল পারফরম্যান্স’ বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইস্তাম্বুলের সাদরি আলিশিক কালচারাল সেন্টারে অভিনয়ের ওপর পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
ধীরে ধীরে তিনি তুরস্কের টেলিভিশন ও নাট্যজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ওয়ান লাভ সিরিজে তার অভিনীত চরিত্র ‘ইশিল’ তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয় এবং দর্শকদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে তুরস্কের বিনোদন অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী, ভক্ত ও বিনোদন জগতের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করছেন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে এমন এক প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রীর চলে যাওয়া পুরো শিল্পজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনের আনন্দময় সময়ের ঠিক পরেই এই বিদায় তার ভক্তদের জন্যও এক গভীর বেদনার ঘটনা হয়ে রয়ে গেছে।
কসমিক ডেস্ক