বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে বা দেশকে কোনোভাবে ‘বিকিয়ে দিয়ে’ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রশ্নই আসে না। বরং পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সরকারের চলমান কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও আলোচনায় উঠে আসে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অনেক সময় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বা সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হলে কিছু মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারের অবস্থান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ যেকোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা কূটনৈতিক উদ্যোগে দেশের স্বার্থই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে।
ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি অবশ্যই ভারত সফরে যেতে আগ্রহী। তার মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে যৌক্তিক, বাস্তবসম্মত এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে অতীতের মতপার্থক্য বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি পেছনে ফেলে উভয় দেশের জন্য উপকারী ক্ষেত্রগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে পানি বণ্টন এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৩টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য হিস্যা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ আছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জনের জন্য কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির বিমানবন্দরে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ঘটনাটিকে হয়রানিমূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, সে সময় তার প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখেন না। তার মতে, তিনি সেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, বরং বাংলাদেশের একটি সরকারি দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে যদি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন, পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইস্যুতে ভূমিকা রাখার সুযোগ আসে, তাহলে তিনি তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে আরও গঠনমূলক পথে এগিয়ে যাবে।
কসমিক ডেস্ক