মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক ও নৌ-সংক্রান্ত অবরোধ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি নির্ভর করবে ইরান চুক্তির শর্তগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে তার ওপর। অর্থাৎ কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং একই সময় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। সম্প্রতি উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে একটি স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধও শিথিল হতে পারে। এরপর একটি নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই নৌপথের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রণালিটি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে সচল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে এখনো সব বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি। বিভিন্ন পক্ষের অনুমোদন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। তবুও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক